অকাল বোধন
“চা, চা, গরম চা”, মাথার পাশে অনেকক্ষণ ধরে চাওয়ালার হাঁকে ঘুম ভেঙ্গে গেল
শীলার। মাথা ঘোরাতেই শীলার চোখে পড়ল এক উজ্জ্বল সাদা আলো। বোধহয় কোন স্টেশনে
দাঁড়িয়েছে ট্রেনটা। আর তাই স্টেশনের আলোয় কামরা একদম আলোকিত।
কিন্ত এতো রাতে কোন স্টেশন? হাতের ঘড়িতে প্রথমেই চোখ গেলো শীলার। ঘড়িতে এখন
আড়াইটে। পাশের বার্থে সন্দীপ অঘোরে ঘুমোচ্ছে। মাঝে মাঝে নাসিকা গর্জনের আওয়াজও
পাওয়া যাচ্ছে। মুচকি হেসে প্ল্যাটফর্মের দিকে চাইল। প্ল্যাটফর্মের পিলারের গায়ে কি
যেন লেখা। হিন্দীতে চিরকালই একটু কাঁচা শীলা। বলতে পারলেও, পড়তে একেবারেই অক্ষম।
“ওই চায়ওয়ালা, ইধর আও।”
চায়ওয়ালা ডাক শুনে দৌড়ে এল শীলার কাছে। চায়ওয়ালা ছোট্ট ছেলে। বয়স বোধহয় দশের
কাছাকাছি। পরনে নীল রঙের জামা আর কালো হাফ প্যান্ট। মনে হয় পেটে তার অনেক খিদে।
করুন চোখে, অসহায় কন্ঠে সে জবাব দিল, “ক্যা চাহিয়ে মেমসাহেব? চায় দু এক কাপ?”
চা খাওয়ার সময় মোটেই এটা নয়। তবুও শীলার কি যেন মনে হল। “ঠিক হ্যায়, এক কাপ দো”।
বালিশের তলায় গুঁজে রাখা পার্সের দিকে হাত গেল শীলার। পার্স খুলেই বুঝল মুশকিল। “এই
তুমহারে পাস খুচরো হ্যায়?”
“নহি মেমসাহেব, চায় তো সির্ফ দো রুপায় কা হ্যায়।” শীলার হাতে দশ তাকার নোট।
একবার ভাবল চা মানা করে দেবে, কিন্তু তারপরে কি মনে হল, ছেলেটার হাতে দশ টাকা দিয়ে
বলল, “ঠিক হ্যায়, বাকি প্যায়সা অপনে পাস রাখো।”
হাসি মুখে পকেটে টাকাটা গুঁজে নিয়ে চাওয়ালা দিল ছুট। শীলার মুখেও স্নিগ্ধ
হাসি। ইতিমধ্যে ট্রেন যেন হঠাৎ দুলে উঠল। ট্রেন আবার ছেড়ে দিয়েছে। মনের আনন্দে
শীলা চায়ের কাপে দিল এক চুমুক।
**********************************************************************************
এটা বোধহয় বিলাস্পুর ছিল। গতবার নাগপুর থেকে আসবার সময় ঠিক এই রকম একটা
স্টেশনে ওরা নেমেছিল চা খেতে। সেইবার ওদের বিয়ের পরে প্রথম পুজোয় বাড়ি যাওয়া।
মজায়, আনন্দে, সেবার সারা রাত ওদের চোখে ঘুম নেই। ‘কখন বাড়ি যাব’, এই চিন্তায় খুব
চঞ্চল ছিল ওদের মন। বার বার স্টেশনের দিকে চেয়েছিল ওরা। ‘আর কত দেরি, আর কটা
স্টেশন’ এই ছিল ওদের প্রশ্ন।
শীলার বাড়ি উত্তর কলকাতায়। স্কুল, কলেজ, সবই ওর উত্তর কলকাতায়। সন্দীপ আবার
দক্ষিণের ছেলে। হাজরার মোড়ে ওদের বাড়ি। ওদের আলাপ কিন্তু এস্প্ল্যানেডে পুজোর সময়
বাজার করতে গিয়ে। প্রায় তিন বছর আগে, পুজোর ঠিক একমাস আগে ওদের দেখা লিন্ডসে
স্ট্রিটের শ্রীলেদার্সের দোকানের সামনে। তখন কলকাতায় বেশ জমিয়ে বর্ষা নেমেছে। সেই
ভরা বর্ষার মধ্যেও শীলা জল ঠেলে গেছিল এস্প্ল্যানেডে জুতো কিনতে।
দোকানের সামনে যখন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে শীলা আস্থির, ঠিক তখনই কানে হেডফোন্স্
লাগিয়ে পিছনে কে যেন খুব জোরে গান শুনছে। সেও আবার কোন সাম্প্রতিক কালের বাংলা
ব্যান্ডের গান। পিছনে তাকাতেই যার দিকে নজর পড়ল শীলার, তাকে হিন্দী সিনেমার আমির
খানের মতনই বললে চলে। গায়ের রং ফর্সা নয়, সাদা। মাথায় তার এক ঝাঁক চুল আর উদ্দীপ্ত
তার দুই চোখ। অন্য যে কোন মেয়ে হলে, প্রথম দেখাতেই মাথা ঘুরে যেত। কিন্তু এ যে
শীলা। বড় বড় চোখ করে, মুখ ভেংচিয়ে পিছনে তাকালো। তার কিছুক্ষণ পরেই পিছন থেকে
আওয়াজ এল, “সরি, আমি বুঝতে পারিনি। এত জোরে হেয়াডফোন্স্ চলছিল, আমি ঠিক বুঝিনি। আমি
খুব দুঃখিত।”
শীলা আবার পিছু ঘুরে তাকাতেই, ছেলেটার নির্দোষ হাসি দেখেই বুঝল, মন-ভ্রমরা
এবার গুন গুন করছে কানের পাশে। তাই সঙ্গে সঙ্গে চোখ নীচু করে, মার্জিত কণ্ঠে
বলেছিল, “ও কিছু না, আমার তো ভালই লাগছিল শুনতে।”
সেই ওদের প্রথম দেখা আর প্রথম কথা বলা। তার পরে কয়েকবার একসঙ্গে সিনেমা যাওয়া,
হাজরার মোড়ে ফুচ্কা খাওয়া, আর দু-একবার হাত ধরে ময়দানে ঘুরে বেড়ান। ঠিক ছয় মাসের
মধ্যে ওদের বিয়ে ঠিক হয়।
*********************************************************************************
আজ প্রায় তিন বছর হতে চলল ওদের বিয়ের। নাগপুরেই থাকে এখন ওরা। সন্দীপ এক নাম
করা সফ্টওয়ার কম্পানীতে কাজ করে, আর শীলা এক স্কুলের শিক্ষিকা। দুজনেই চলেছে
কলকাতার উদ্দেশ্যে পুজোর ছুটি কাটাতে। সারা বছর যেখানেই থাকুক না কেন, পুজোর সময়
বাড়ি যাওয়া চাই। সে ব্যাপারে দুজনেই একমত। পুজো মানেই অনেক খাওয়া দাওয়া, আর অনেক
বাজার করা।
ছোটবেলা থেকেই শীলার সেটাই সবথেকে বড় এ্যাট্রাক্শ্ন। কলকাতার নানান
দোকানে জামা কেনা আর সেই অজুহাতে বাইরে নানান রেস্তরায় খেয়ে বেড়ান। গত বছর ওরা অবশ্য
কলকাতায় পৌছে বাজার করেছিল। তবে এবার আর সে সুজোগ হবে না। কারণ আজই তো ষষ্ঠী।
দেবীর অকাল বোধন তো আজকেই। আজ যখন ওরা গিয়ে হাওড়ায় নামবে, তখনি তো দেবীর আগমন
প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে।
“কী হল ঘুমোওনি?” হঠাৎ পাশের বার্থ থেকে সন্দীপের নিদ্রাছন্ন গলায় উক্তি।
শীলার মুখে হাসি।
“তুমিও তো ঘুমোওনি। আসলে আমার খুব অস্থির লাগছে। মায়ের কাছে যাব তো তাই। আবার
বাবাকে দেখব। তোমার মনে হচ্ছে না? আচ্ছা তুমি বেরোবার আগে তোমার মা কে একটা ফোন্
করেছিলে তো?”
সন্দীপের ঠোটের কোলে হাসি। “আচ্ছা তোমার কী মনে হয়? মা কে ফোন্ করে বেরোলেই, মা এর চিন্তা শেষ?”
কথা বলতে বলতে আবার ট্রেন থেমে গেল।
“আজকে ট্রেন টা খুব লেট করবে মনে হচ্ছে। আজকাল যা হয়েছে!”
শীলা সন্দীপের কথা না শুনে, একমনে বাইরে তাকিয়ে থাকল। হঠাৎ কিভাবে যেন সব কিছু
চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে। অন্ধকার নিমেষে উধাও।
“এই এদিকে তাকাও একবার, বাইরে দেখো না। সব কিছু কি সুন্দর দেখাচ্ছে চাঁদের
আলোয়। আমার একটা রবি ঠাকুরের গান মনে পড়ে গেল, জানো তো। ‘আজ জ্যোতস্না রাতে সবাই
গেছে বনে।”
“ঠিক বলেছ তো। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। চাঁদকে নয় তোমাকে। তোমার এলমেল চুল যখন
মুখ ঢেকে দিচ্ছে আর চাঁদের আলোয় তোমার মুখটা কেমন উজ্জ্বল হয়ে উঠছে মাঝে মাঝে।
আমার তো ওই গানটা মনে পড়ে গেল, ‘চাঁদ দেখতে গিয়ে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি”, সন্দীপ
গেয়ে উঠল।
শীলা জোরে হেসে ফেলল। ওরা দুজনেই খুব সুংগীতানুরাগী। গানের মধ্যে দিয়ে কথা বলা
ওদের একটা পুরোন খেলা।
“এই কী হচ্ছে? সবাই ঘুমোচ্ছে। এখন গানের খেলা শুরু করবে নাকি? এইবার আমাদের
ট্রেন থেকে নামিয়ে দেবে, বুঝলে?”
সন্দীপ ও মুখ চেপে হাসতে শুরু করল, ওপর এর বার্থের দিকে তাকিয়ে।
ট্রেন আবার ছেড়ে দিয়েছে। খোলা জানলা দিয়ে ঠান্ডা হাওয়া কামরার মধ্যে ভেসে এলো।
শীলার চুল আবার ওর মুখকে ঢেকে দিল। ওদিকে সন্দীপ এক দৃষ্টিতে ওর দিকে চেয়ে আছে।
“এই শোন, মা এর শাড়ী আর বাবার ধুতিটা সুটকেসে রেখেছিলে তো? আমার কিন্তু মনে
নেই”
“হ্যা, রেখেছি। তোমার আবার কখন কী মনে থাকে বল। গতবার তোমাকে কত করে বল্লাম,
পুতুল পীসীমার শাড়ীটা রাখতে, আর তুমি সেই ভুলে গেলে। আর আরপর তোমাকে গড়ীয়াহাটে
যেতে হয়েছিল আবার শাড়ী কিনতে।”
“আমি তাই তোমাকে সবসময় বলি, কলকাতায় গিয়ে বাজার করবে। কী দরকার এত দূর থেকে সব
কিনে নিয়ে যাওয়ার।”
শীলা হেসে বলল, “সে অবশ্য ঠিক বলেছ। তবে এইবার তো সময় ছিলে না একদম, কাল তো
ষষ্ঠী, পুজো শুরু। আমি তাই নিজের সব কটা শাড়ী ওখান থেকেই কিনে নিয়েছি। তবে বেশী
কিছু কিনিনি, শুধু দুখানা। তবে শোন, এইবার এতো দেড়িতে বাড়ী যাচ্ছি, একটু বেশী দিন
থাকলে হয় না? কী বল? তোমার ছুটি একটু বাড়ানো যায় না?”
“সে দেখা যাবে, আগে গিয়ে পৌছই, তারপর।”
“তার মানে হ্যা বলছ? মানে কিছু সম্ভাবনা আছে?”
সন্দীপের মুখে আবার হাসি।
“এই দেখেছ, কথা বলতে বলতে, চা টা থান্ডাই হয়ে গেল।”
সন্দীপের প্রশ্ন, “এতো রাতে চা?”
“কী করব বল, ঘুম ভেঙ্গে গেল, তারপর কিছু করার ছিল।”
“হুঁ, বুঝলাম। যাই, আমি আবার শুতে যাই। তুমিও এবার শুয়ে পড়, আর তো কয়েক ঘণ্টা
পরেই উঠতে হবে”, বলেই সন্দীপ বালিশে মাথা রেখে ছোখ বুজল।
শীলার হঠাৎ ওর ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। যখন পুজোর সময় ও ওর বাবার হাত ধরে
প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে যেত। ওর মা ওকে নিজের মতন করে নিত্ত নতুন জামা পড়িয়ে সাজিয়ে
দিত। আর ওর মা বলত, “যখন তোর বড় হয়ে বিয়ে হবে, দেখবি তোর বর তোকে কত জামা কিনে
দেবে।” আর শীলা বলে উঠত, “আমার বর কী আমাকে সাজিয়ে ও দেবে মা?” ওর মা তখনি খুব
হেসে উঠত।
শীলা ওর বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। অনেক যত্নে মানুশ। ওর বাবা মায়ের চোখের মণি
যাকে বলা যায়। তাই যখন সন্দীপ কে বিয়ে করবে বলেছিল, শীলার বাবার খুব অভিমান হয়। শীলা
বুঝেছিল ওর বাবার কোথাও একটা ভয় ছিল, ‘সন্দীপ ভালো ছেলে তো? আমার মেয়েকে সুখে
রাখবে তো?”
তবে গত তিন বছরে ওঁরা ঠিক বুঝেছেন যে সন্দীপ অদের হীরের টুকড়ো জামাই। স্বভাবে,
চরিত্রে তার তুলনা নেই। আধুনিক হলে কী হবে, সন্দীপ খুবই সংসারী ছেলে। শীলা সুখী
বলে ওর বাবা মা ও খুব খুশী।
এই সব পুরোন কথা ভাবতে ভাবতে, কখন যে শীলার চোখ জুড়িয়ে এসেছে, ও টেরই পায়নি। ঘুমিয়ে
পড়ল শীলা। একদিকে সন্দীপ আর অন্যদিকে শীলা। কামরার মাঝের টেবিলে, সেই চায়ের কাপটা
ট্রেনের ঝাঁকুনিতে দোদুল্যমান।
**********************************************************************************
“এই উঠে পড়, হাওড়ায় গাড়ী ঢুকছে, উঠে পড়”, সন্দীপের গলার আওয়াজ ভেসে এল শীলার
কানে।
শীলা তাড়াতাড়ী উঠে পড়ল। ঘড়ীতে তখন ভোর সাড়ে ছটা।
ব্যাগ এর সাইড থেকে চেন খুলে, ব্রাশ আর টুথপেস্ট নিয়েই শীলা ছুটে গেল
বাথ্রুমের দিকে।
“ইশ্ বড্ড দেরী হয়ে গেল”, ভাবতে ভাবতে যখন শীলা ওর মাল বার করছে বার্থের নীচ
থেকে, ট্রেন তখন স্টেশনে ঢুকে পড়েছে। কুলিরা তখন হাঁক দিচ্ছে।
“সন্দীপ! আমার ব্যাগটা কই? খুঁজে পাচ্ছিনা!”
“এই তো এখানে, ধর, ধর হাতে ধর। তাড়াহুড়ো কর না। সবাই নেমে যাক, তারপরে নেমো
ধীরে সুস্থে!”
“তাই ভালো।”
**********************************************************************************
শীলার বাবা মা এত ভোরবেলাতেও স্টেশনে হাজির। উদ্বিগ্ন চোখে বগির দিকে হাঁটছেন।
“এই শীলার কোন কামরা বলো তো? এস্-ফোর বলেছিল না?”
“হ্যাঁ, এস্-ফোর। আমি কত করে বললাম এসি তে আয়। শুনল না আমার কথা। বলল ঠিক
ম্যানেজ করবে। ওরা নাকি প্রতিবার এমনি স্লিপারেই আসে।”
দূর থেকে ওরা শীলাকে হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে থেকে হেঁটে আস্তে দেখল। মেয়ের চেহারা
অনেক খারাপ হয়ে গেছে। দেখতে তবে শীলাকে এখন সুন্দর। লম্বা চুল, সুন্দর ফিগার্।
পরনে নীল রঙের হাল্কা শাড়ী। শীলার মা এর চোখে ভেসে এল জল।
আজ মহাষষ্টী। দেবীর এবার দোলায় আগমন। আর শীলা এল ট্রেনে বাপের বাড়ী।
“বাবা ভালো আছো? মা ভালো আছো? তোমরা এতো সকালে কেন এলে? আমি তো বললাম ট্যাক্সি
নিয়ে চলে আসব। আর একী মা? তুমি কাঁদছো কেন? আমি তো এসে গেছি!”
“শীলা তুই ভালো আছিস তো মা?” ওমনি মায়ের প্রশ্ন।
শীলা হেসে ওর বাবার দিকে চাইলো।
শীলার বাবা বলে উঠলেন, “আমি বলেছিলাম না? আমাদের মেয়ে পারবে। শীলা পারবে। ওকে
আমরা যেভাবে মানুশ করেছি, ও পারবে। আর তাছাড়া সন্দীপ আজ নেই তো কী হয়েছে, আমরা তো
রয়েছি। তাই না মা?”
সন্দীপ আজ ছ-মাস হল নেই। নাগপুরে গাড়ী দুর্ঘটনায় ও প্রাণ হারায়। শীলা সেদিন
স্কুলে পড়াচ্ছিল। হঠাৎ প্রিন্সিপাল ডেকে পাঠায় ওকে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে যায়
হাস্পাতালে। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে।
পরে শীলার শশুড়, শাশুড়ী, ওর মা, বাবা সবাই দৌড়ে যান নাগপুরে। মেয়েকে কলকাতা
ফিরে যেতে বহুবার বলেন ওনারা। কিন্তু শীলার জেদ। সন্দীপ আর ও দুজনে মিলে নাগপুরের
ওই বাড়ি সাজিয়েছিল। ওই বাড়ি ছেড়ে ও কখনই আসবে না। পরে ওর বাবাকে বলেছিল, “বাবা,
তোমাদের মাঝে সন্দীপ কোথাও হারিয়ে যাবে, কিন্তু এখানে ও সব সময় জীবিত থাকবে, আমারই
চারি পাশে। আমাকে থাকতে দাও বাবা।”
ছয় মাস পর আবার ওর বাবা মা এর সঙ্গে দেখা শীলার।
“কে বলল আমি একা, বাবা? সন্দীপ তো আছে আমার সঙ্গে, প্রতিটা মুহুর্তে। তোমার
জামাই কী আমাকে একা ফেলে যেতে পারে?” মুচকি হেসে বলল শীলা।
ওর বাবার হাতে সুটকেসটা দিয়ে, পিছনে ঘুরে একবার চাইল শীলা। ট্রেনের জানলায়
সন্দীপ বসে রয়েছে। বলছে, “ভালো থেকো শীলা, তোমার পুজো ভাল কাটুক। এবার না হয় কিছু
দিন বেশী কাটিয়ে যেও।”
*************************************সমাপ্ত******************************************